ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায় বিস্তারিত জেনে নিন
আপনি কি ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য ।বর্তমানে অনেকেই ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করছে। এর মধ্যে ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করা অন্যতম।
অনেকেই মনে করেন ইমেইল মার্কেটিং করা অনেক কঠিন ।কিন্তু আপনি যদি ধৈর্য ধরে শিখতে পারেন তাহলে ইমেইল মার্কেটিং করে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে ছোটখাটো কাজে ইমেইল মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায়। ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই আর্টিকেল।
পোস্ট সূচী পত্রঃ ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায়
- ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায়
- ইমেইল মার্কেটিং এর ইতিহাস
- ইমেইল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে কাজ করে
- ইমেইল মার্কেটিং এর প্রকার বা ধরন
- ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার টেকনিকসমূহ
- ফ্রিতে ইমেইল মার্কেটিং শেখার সহজ উপায়
- বাংলাদেশে বসে ইমেইল মার্কেটিং করে ইনকাম করার নিয়ম
- ইমেইল মার্কেটিং দিয়ে কিভাবে অনলাইন বিজনেস বাড়ানো যায়
- ইমেইল লিস্ট সহজে কিভাবে তৈরি করবেন
- ইমেইল মার্কেটিং এর বেস্ট টুলস কোনটি
- ইমেল মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্যাসিভ ইনকাম করার কৌশল
- ইমেইল মার্কেটিং এর সুবিধা গুলো
- ইমেইল মার্কেটিং এর মূল উদ্দেশ্য
- নতুনদের জন্য ইমেইল মার্কেটিং গাইড
- আমাদের শেষ কথাঃ ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায়
ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায়
অনলাইনে ইনকাম করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। তার মধ্যে ইমেইল মার্কেটিং এখন অনেক জনপ্রিয়। যারা ঘরে বসে কিছু শিখে ইনকাম করতে চান তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ। কিন্তু অনেকেই জানেন না,ইমেইল মার্কেটি কি , অনেকেই মনে করেন ইমেইল মার্কেটিং মানে শুধুমাত্র ইমেইল পাঠানো। কিন্তু এর সাথে কিছু পরিকল্পনা ,সঠিক লক্ষ্য ঠিক করা , সম্পর্ক তৈরি করার মত কাজ গুলো জড়িত। ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করতে হলে প্রথমে দরকার হবে ইমেইল লিস্ট বা তালিকা করা। আপনি যাদের ইমেইল পাঠাবেন তারা যেন আগ্রহী থাকে। আপনার প্রস্তাব বা পণ্যের বিষয় এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। আপনি নিজে প্রোডাক্ট বা অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রমোট করতে চাচ্ছেন, তাহলে প্রথমে আপনাকে একটি লোক খুঁজতে হবে যারা উক্ত বিষয়ের প্রতি আগ্রহী। আপনি তাদেরকে একটি ছোট ফ্রি গিফট দিয়ে ইমেইল পাঠাতে পারেন। যেমন, একটি পিডিএফ গাইড অথবা ফ্রী কোর্স ইত্যাদি।
আরও পড়ুনঃ নতুন ওয়েবসাইট গুগলে দ্রুত ইনডেক্স করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
এরপরে নিয়মিত সেই ইমেইল তালিকায় মানসম্মত কনটেন্ট পাঠাতে হবে যাতে করে পাঠক আপনার প্রতি আস্থা পায়। এই আস্থার জায়গা তৈরি হলে আপনি যখন তাকে কোন পূর্ণ বা সার্ভিস এর কথা বলবেন তখন সে সেটা কিনতে আগ্রহী হবে। এখান থেকে আপনি সহজেই ইনকাম করতে পারবেন। আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে, আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট নিউজ বা বিষয় বেছে নিয়ে কাজ করেন। যেমন- স্বাস্থ্য, শিক্ষা ,টেকনোলজি অথবা রান্না ।এতে করে আপনি নির্দিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। ইমেইল পাঠানোর জন্য কিছু ভালো টুলস রয়েছে। যেমন- Mailchilmp,GetResponse বা Systemo.io । এইগুলো ব্যবহার করলে আপনার কাজ অনেকটা সহজ হবে। টুলসগুলো শুরুতে ফ্রিতে ব্যবহার করার সুযোগ পাওয়া যায়। ইমেইল মার্কেটিং কোন ম্যাজিক নয়, এখানে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে হবে। আপনি যদি ধাপে ধাপে শিখেন ,সঠিক কনটেন্ট দেন এবং পাঠকের চাহিদা বুঝতে পারেন তাহলে খুব সহজেই মার্কেটে ইমেইল মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারবেন ।আর একবার ভালোভাবে লিস্ট তৈরি হয়ে গেলে সেখান থেকে অনেক দিন পর্যন্ত প্যাসিভ ইনকাম করে আসতে পারবেন।
ইমেইল মার্কেটিং এর ইতিহাস
ইমেইল মার্কেটিং এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। গ্যারি থুয়েরক ( Gary Thuerk )
নামের একজন মার্কেটর প্রথমবারের মতো ইমেইলের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বার্তা পাঠান।
তিনি DEC (Digital Equipment Corporation ) কোম্পানির পণ্য
প্রচারের জন্য প্রায় প্রায় ৪০০ জন সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে একটি ইমেইল পাঠান, যা
থেকে আধুনিক ইমেইল মার্কেটিং এর সূচনা ঘটে। যদিও এই প্রচারণা টি
আজকের দৃষ্টিতে স্প্যাম হিসাবে বিবেচিত হতে পারে,তবে এটি বিপুল সারা ফেলে
ছিল এবং কোম্পানিটির বিক্রয়ের লক্ষণীয় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তী কয়েক
দশকে ইন্টারনেটের প্রসার এবং ইমেইল ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
ইমেইল মার্কেটিং আরো কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর একটি মার্কেটিং টুলে রূপ নেয়।
১৯৯০ এবং ২০০০ দশকে বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটিং সফটওয়্যার ও অটোমেশন টুল তৈরি
হয়, যার ফলে ব্যবসা গুলো ব্যক্তিগতকৃত, সময়উপযোগী এবং টার্গেটেড ইমেইল পাঠাতে
সক্ষম হয়।
ইমেইল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে কাজ করে
ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আপনি ইমেল এর মাধ্যমে মানুষের সাথে
যোগাযোগ করবেন। তাদেরকে আপনার পণ্য বা সেবার বিষয়ে জানাবেন। এবং ধীরে ধীরে
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলবেন ।খুব সহজভাবে বললে, ইমেইল মার্কেটিং মানে হচ্ছে কারো
ইনবক্সে গিয়ে তাদের উপকারে আসবে এমন কিছু জানাতে হবে যাতে করে তারা আপনার কাছ
থেকে কোন কিছু কিনতে আগ্রহী হয় ।মনে করেন আপনি একটি অনলাইন কোর্স বানিয়েছেন।
এখন আপনি যদি শুধু ফেসবুকে পোস্ট করেন তাহলে হয়তো অনেকেই দেখবেনা।
কিন্তু আপনি যদি আগের থেকেই উক্ত বিষয়ে যারা আগ্রহী তাদের ইমেইল ঠিকানা সহ একটি
তালিকা তৈরি করে নিতেন তাহলে সরাসরি আপনি তাদের ইনবক্সে আপনার কোর্স সম্পর্কে
জানাতে পারতেন। এতে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখত এবং বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি
হতো। ইমেইল মার্কেটিং তিনটি ধাপে কাজ করে। প্রথমটি হচ্ছে -ইমেইল সংগ্রহ করা।
দ্বিতীয়তঃ আপনি কোন ফ্রি গিফট লিস্ট অথবা মিনি দিয়ে মানুষকে আপনার ওয়েবসাইটে
বা লেন্ডিং পেজে তাদের ইমেইল নিতে পারবেন। একবার তাদের ইমেইল নিতে পারলে
তাদের উপকারে আসবে এমন কনটেন্ট নিয়মিত পাঠাতে হবে যাতে করে তারা আপনাকে চিনে এবং
বিশ্বাস করে। তৃতীয়ত হচ্ছে, অফার করতে হবে যখন সময় বুঝে আসবে তখন আপনি আপনার
পণ্য সার্ভিস বা এফিলিয়েট লিংক পাঠিয়ে অফার করতে পারেন। যারা আগ্রহী তারা সেটি
কিনবে এবং এখান থেকে আপনার ইনকাম শুরু হবে। ইমেইল মার্কেটিং এর সবচেয়ে ভালো দিক
এবং সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, রাতারাতি
কোন কিছুই হয় না তাই ধৈর্য ধরতে হবে। নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে এবং পাঠকের চাহিদা
বুঝে কন্টেন্ট পাঠাতে হবে।
ইমেইল মার্কেটিং এর প্রকার বা ধরন
ইমেইল মার্কেটিং বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, এটা নির্ভর করে আমাদের উদ্দেশ্য এবং কন্টেন্টের উপর। নিচে ইমেইল মার্কেটিংয়ের কয়েকটি জনপ্রিয় ধরন নিয়ে আলোচনা করা হলো-
- প্রমোশনাল ইমেইলঃ এ ধরনের ইমেল এর মাধ্যমে মূলত কোন অফার, ডিসকাউন্ট বা নতুন প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানানো হয়।
- ট্রানজেকশনাল ইমেইলঃ কাস্টমার কোন প্রোডাক্ট কিনবে বা রেজিস্ট্রেশন করলে এ ধরনের ইমেইল পাঠানো হয়। যেমন, অর্ডার কনফার্মেশন বা শিপমেন্ট নোটিফিকেশন।
- নিউজ লেটার ইমেইলঃ এ ধরনের ইমেইল নির্দিষ্ট সময় পর পর পাঠানো হয়। যেখানে বিভিন্ন আপডেট, খবর , ব্লগ পোস্ট বা প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।
- সার্ভিস আপডেট ইমেইলঃ এ ধরনের ইমেইল গ্রাহকদের সার্ভিস আপডেট এবং নতুন ফিচার সম্পর্কে জানানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ।
ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার টেকনিকসমূহ
১। ইমেইলে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আয় -এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি মডেল যেখানে আপনি অন্যের পণ্য প্রচার করবেন এবং বিক্রয় হওয়া পণ্যের মূল মূল্য হতে একটা নির্দিষ্ট হার ধরে কমিশন পাবেন। কমিশনের হারটি নির্দিষ্ট নয় ,একেক প্রতিষ্ঠান পণ্য ভেদে এক এক রকম কমিশন দিয়ে থাকে ।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনাকে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিতে হবে। যেমন Amazon ,Associate,ClickBank বা CJ Affiliate ইত্যাদি ।এসব প্লাটফর্মে যোগ দিয়ে আপনাকে এফিলিয়েট লিংক সংগ্রহ করতে হবে। তারপর সেসব লিংক আপনাকে শেয়ার করে গ্রাহকদের পণ্য ক্রয় করতে উৎসাহিত করতে হবে। এসব মাধ্যমের মধ্যে ইমেইল একটি অন্যতম মাধ্যম যেটি ব্যবহার করে আপনি এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে গ্রাহকদের সেই পণ্য ক্রয় করতে উৎসাহিত করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু টেকনিক অ্যাপ্লাই করতে হবে। গ্রাহক অনুযায়ী আপনাকে ইমেইল কনটেন্ট তৈরি করে মেইল পাঠাতে হবে।
২। ই-কমার্স ব্যবসার জন্য ইমেইল মার্কেটিং-যখন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কোন পণ্য বা সেবা বিক্রয় করা হয় তখন সেই ব্যবসাকেই ই-কমার্স ব্যবসা বলে। ৪ প্রকার ই-কমার্স ব্যবসা রয়েছে ,
১ ।বিজনেস টু বিজনেস (B2B)
২ ।বিজনেস টু কনজুমার (B2C)
৩ ।কনজুমার টু কনজুমার (C2C)
৪। কনজুমার টু বিজনেস (C2B)
ই-কমার্স সাইডে পণ্য বিক্রি বাড়ানোর জন্য ইমেইল মার্কেটিং অত্যন্ত কার্যকর
।ইমেইলে আপনি গ্রাহকদের কাছে নিয়মিত বিভিন্ন পণ্যের আপডেট জানাতে পারেন
ডিসকাউন্ট কুপন বা নতুন পণ্য বাজারে আনলে সে সম্পর্কে ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহককে
জানাতে পারেন। আবার যেসব গ্রাহক পণ্য শিপিং কার্টে যুক্ত করার পরও অর্ডার করে
নাই, তাদের কার্ডঅ্যাবনডনমেন্ট ইমেইল পাঠান।
৩। স্পন্সরড ইমেইলের মাধ্যমে ইমেইল মার্কেটিং করে আয়
আপনি যখন কোন ব্রান্ডের পণ্য বা সেবা ইমেইলের মাধ্যমে তাদের টার্গেটেড গ্রাহকের কাছে প্রচার করবেন তখন সেই মেইলকে স্পন্সরড ইমেইল বলে। ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার জন্য এটি একটি বড় মাধ্যম ।এই পদ্ধতিতে আয় করার জন্য আপনার কাছে একটি বড় এবং একটিভ ইমেইল লিস্ট থাকতে হবে। কিভাবে এই লিস্ট তৈরি করবেন- আপনার যদি ব্লগ থাকে তাহলে আপনি ব্লগে কন্টেন্ট অফার করে গ্রাহকদের ইমেইল সংগ্রহ করতে পারেন ।এছাড়া আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও ইমেইল লিস্ট সংগ্রহ করতে পারেন ।এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে এমন ভাবে আপনাকে স্পন্সরড ইমেইল তৈরি করতে হবে যাতে গ্রাহক বিরক্ত না হয়। এবং স্পন্সরড লিংকে ক্লিক করতে উৎসাহিত হয়।
৪ ।নিজের পণ্য বা সেবা বিক্রি করে আয়
মনে করেন আপনি একজন লেখক। আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে বই লেখেন ।তাহলে আপনি আপনার টার্গেটেট পাঠক এর কাছে ইমেইল এর মাধ্যমে আপনার বইয়ের প্রচার করতে পারেন। তাদেরকে আপনার বইয়ের মূল অংশ ইমেইল এর মাধ্যমে জানাতে পারেন। বইয়ের আপডেট অফার ডিসকাউন্ট দিয়ে মেইল করতে পারেন। এভাবে আপনি যদি কোন পণ্য বা সেবা ধর্মী ব্যবসা থাকে তাহলে ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিয়মিত জানান। এভাবে নিয়মিত মেইল করলে তারা একসময় আপনার গ্রাহকে পরিণত হতে পারে। আপনার যদি নিজস্ব পণ্য বা সেবা থাকে তাহলে আপনি ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার করে তা বিক্রি করতে পারেন। গ্রাহকের কাছে নিয়মিত আপনার পণ্য বা সেবার আপডেট অফার ,ডিসকাউন্ট ইমেইল এর মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারেন।
৫।ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ইমেইল মার্কেটিং করে আয়
আপনি যদি ইমেইল মার্কেটিংয়ের দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই ভালো পরিমাণে আয় করতে পারবেন। কারণ বর্তমানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ইমেইল মার্কেটিং এ জোর দিচ্ছে ।তাই এই সেক্টরে দক্ষ জনবলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আয় করার জন্য আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে হবে। তারপর এইসব মার্কেটিং প্লাটফর্মে আপনাকে ইমেইল মার্কেটিং এর কাজ খুঁজতে হবে। অথবা ফাইবারে ইমেইল মার্কেটিং এক্সপার্ট হিসেবে গিগ তৈরি করতে হবে ।ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনি গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দিতে পারেন। যেমন-
- ইমেল লিস্ট তৈরি করে দেওয়া
- ইমেইল টেমপ্লেট তৈরি করে দেওয়া
- ইমেইল কনটেন্ট তৈরি করে দেওয়া
- ইমেইল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন সেট করা
- ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা
- পারফরম্যান্স ট্যাঁকিং করে গ্রাহককে অবগত করা এবং পরামর্শ দেওয়া
- অটোমেশন সার্ভিস অফার করা ইত্যাদি
৬। ইমেইলে কোর্স বিক্রি করে আয়
আপনি যদি একজন শিক্ষক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ইমেইলে আপনার কোর্স বিক্রি করতে পারেন। সম্ভাব্য গ্রাহকদের ইমেইলের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ভাবে আপনার কোর্সের কন্টেন্ট উপস্থাপন করতে পারেন। কোর্সটি করলে গ্রাহক কোন কোন বিষয়ে সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সেই জ্ঞান কিভাবে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাবেন সে ব্যাপারে সংক্ষিপ্তভাবে গ্রাহকের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন। আপনার যদি নিজের তৈরি কোর্স, নিজের তৈরি করা কোন কোর্স না থাকে তাহলে আপনি Udemy, Teachable, Coursera এর কোর্স ই-মেইলের মাধ্যমে প্রচার করতে পারেন। তবে এটা এফিলিয়েট মার্কেটিং হয়ে যাবে। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি তাদের কোর্স বিক্রি করে ভালো পরিমানে কমিশন অর্জন করতে পারবেন।
৭।নিউজ লেটার সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়
নিউজ লেটারের মাধ্যমে সাবস্ক্রাইবার সংগ্রহ করা একটি কমন বিষয়। প্রায় সব
ওয়েবসাইটে নিউজ লেটারের মাধ্যমে সাবস্ক্রাইবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। এই ইমেইল
নিউজ লেটার এর মাধ্যমেও আপনি আয় করতে পারেন। ভাবছেন, যেখানে মানুষ সহজে
সাবস্ক্রাইব করতে চায়না, সেখানে আবার ফ্রি দিয়ে কিভাবে সাবস্ক্রাইব করবে। হ্যাঁ
অবশ্যই করবে। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আপনার কন্টেন্টকে উপকৃত
গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন এবং তাদেরকে বুঝতে পারেন যে আপনার কন্টেন তাদের
জন্য কি পরিমাণ উপকারী হবে।এটা অনেকটা পেইড মেম্বারশিপ এর মত। সাবস্ক্রাইবাররা
একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফিড দিয়ে মেম্বার হবে। এর বিনিময় আপনাকে তাদের চাহিদা
অনুযায়ী কোয়ালিটি সম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে ।তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিতে
হবে এবং সে অনুযায়ী কনটেন্টের আধুনিকায়ন করতে হবে।
৮। ইমেইল মার্কেটিং করে ফান্ডরেইজিং বা ডোনেশন গ্রহণ
ইমেইল মার্কেটিং করে ফান্ডরেইজিং বা ডোনেশন গ্রহণ করেও এর মাধ্যমে আপনার আয় হবে ।মূলত ফান্ডরেইজিং বিষয়টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এর মাধ্যমে কোন সামাজিক কাজ সম্পন্ন করা হয় বা কাউকে সাহায্য করা হয়। কিন্তু এভাবে চিন্তা করে দেখেন আপনি পাঠকের জন্য ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময় অর্থ ব্যয় করছেন ।অন্যদিকে এই কন্টেন্ট অনেকেরই বিভিন্নভাবে উপকার হচ্ছে ।তাই যেহেতু আপনার সময় অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কনটেন্ট দ্বারা অন্যরা উপকৃত হচ্ছে তাই আপনি ফান্ড রেজিং করতে পারেন বা ডোনেশন গ্রহণ করতে পারেন।
৯। লিড জেনারেশন সার্ভিস প্রদান করে আয়
লিট জেনারেশন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি পণ্য বা সেবার
প্রতি গ্রাহকের যে আগ্রহ আছে সেটাকে বিক্রয়ে পরিণত করা। এ কাজটি করা
হয় ভিজিটরদের কন্টাক তথ্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ইমেইল
এড্রেস সংগ্রহ করে। বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল প্রয়োজনীয় কনটেন্ট
তৈরি করে। ইমেইলের মাধ্যমে তাদেরকে আপনার বরাদ্দের প্রতি আগ্রহী করে তোলা ।
ইমেইলের মাধ্যমে লিড জেনারেশন এই কাজটি করে আপনি ভালো পরিমাণে আয় করতে পারবেন।
কারন বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লিড জেনারেশন এর খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। এ
প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর নতুন গ্রাহক পাচ্ছে।
১০। অটোমেটেড ফানেল তৈরি করে আয়
ইমেইল মার্কেটিং ফানেল হচ্ছে কৌশলগতভাবে সাজানো ইমেইল সিরিজ যার মাধ্যমে একজন সম্ভাব্য গ্রাহককে পরিণত করা হয়। এবং বর্তমানে গ্রাহকে বিশ্বস্ত গ্রাহকে পরিণত করা হয়। গ্রাহকের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি মাথায় রেখে ইমেইল স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে হয় এবং বিভিন্ন ধাপে গ্রাহককে ভিন্ন ধরনের ইমেইল দিতে হয়।
একটি ইমেইল মার্কেটিং ফ্যানেলে বেশ কয়েকটি ধাপে থাকে যেমন-
- পরিকল্পনা
- সচেতনতা বৃদ্ধি করা
- বিবেচনা বোধ তৈরি করা
- সাধারণ গ্রাহকে পরিণত করা
- বিশ্বস্ত গ্রাহকে পরিণত করা
- গ্রাহক ধরে রাখার চেষ্টা করা
এভাবে ইমেইল মার্কেটিং ফানেল তৈরি করে আপনি সহজে অনেক আয় করতে পারবেন। আপনি নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফানেল তৈরি করতে পারেন। আবার অর্থের বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ফানেল তৈরি করতে পারেন।
ফ্রিতে ইমেইল মার্কেটিং শেখার সহজ উপায়
অনলাইনে আয় করতে চাইলে ইমেইল মার্কেটিং জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন এটা শিখতে হলে অনেক টাকা লাগে কিন্তু সত্য কথা বলতে নিজের ইচ্ছা থাকলে ফ্রিতেও ইমেইল মার্কেটিং শেখা যায়। এর জন্য শুধু সঠিক পথ এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রথমে আপনি ইউটিউব থেকে শুরু করতে পারেন ।অনেক বাংলাদেশী এবং বিদেশি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যারা ধাপে ধাপে ইমেইল মার্কেটিং শিখিয়ে থাকে। ভিডিও দেখে আপনি একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে পারবেন ।
এছাড়াও কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে ।যেমন-Coursera, Hubspot Academy এবং Google Digital Garage এই ওয়েবসাইট গুলোতে আপনি ফ্রিতে কোর্স করতে পারবেন এবং সার্টিফিকেট ও নিতে পারবেন। শেখার পাশাপাশি প্র্যাকটিস করা অনেক জরুরী। আপনি Mailchilmp, GetResponse বা Systemo.io এ টুলস গুলো ব্যবহার করে হাতে-কলমে কাজ শিখতে পারবেন। এতে করে আপনার অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। যে কোন কিছু শেখার জন্য আগ্রহ এবং নিয়মিত সময় দেওয়া অনেক জরুরী ।প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে সময় দিলেও আপনি ইমেইল মার্কেটিংয়ের দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন।
বাংলাদেশে বসে ইমেইল মার্কেটিং করে ইনকাম করার নিয়ম
বর্তমানে বাংলাদেশে বসে ইমেইল মার্কেটিং করা খুব একটা কঠিন বিষয় না। বাংলাদেশে বসেও এখন ইমেইল মার্কেটিং করে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এর জন্য শুধু সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত চেষ্টা করতে হবে। প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন।যেমন ডিজিটাল প্রোডাক্ট ,এফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা নিজের সার্ভিস ।এর পরে আপনাকে সেই বিষয়ের উপর আগ্রহী মানুষের একটি ইমেইল লিস্ট তৈরি করতে হবে। আপনি চাইলে ফেসবুক ইউটিউব বা নিজের কোন ছোট ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ফ্রী রিসোর্স দিয়ে ইমেইল নিতে পারবেন।
একবার যদি আগ্রহী মানুষের ইমেইল নিয়ে তালিকা তৈরি হয়ে যায় তাহলে নিয়মিত উক্ত বিষয়ে উপকারী ও তথ্যগুলো তাদের ইনবক্সে পাঠাতে হবে ।এতে করে পাঠকের মনে আস্থা তৈরি হবে। এরপর আপনি ধাপে ধাপে পণ্য বা সার্ভিস প্রমোট করতে পারবেন। আপনি চাইলে Mailchilmp, GetResponse বা Systemo.io এ সমস্ত ফ্রী টুলসগুলো ব্যবহার করে খুব সহজে কাজ করতে পারবেন। আর সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এসব কাজ করতে আপনার কোন অফিস লাগবে না। আপনার কাছে শুধুমাত্র একটি মোবাইল এবং একটি ল্যাপটপ থাকলে ঘরে বসে ইনকাম করতে পারবেন।
ইমেইল মার্কেটিং দিয়ে কিভাবে অনলাইন বিজনেস বাড়ানো যায়
ইমেইল মার্কেটিং অনলাইন বিজনেস বাড়ানোর জন্য একটি সাধারণ উপায়। কারণ ইমেইল
সরাসরি মানুষের ইনবক্সে যায়। সেখানে তারা ব্যক্তিগতভাবে মনোযোগ দেয় আপনি যদি
নিয়মিত উপকারী তথ্য অফার এবং নতুন পণ্যের খবর পাঠান তাহলে ক্রেতার সঙ্গে একটা
বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হবে। এই বিশ্বাস ই ব্যবসা বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি। মনে
করেন আপনি একটি অনলাইন শপ চালান, এতে করে সেই ব্যক্তি আপনার সাইটে আবার আসবে এবং
কিছু না কিছু অবশ্যই কিনবে।
ইমেইল মারফত আপনি স্পেশাল ছাড় বা সময় সীমাবদ্ধ আপডেট পাঠাতে পারেন । যদি ঠিক
মতো ইমেইল পাঠাতে পারেন তবে দ্রুত বিক্রি বাড়তে সাহায্য হবে। আবার পুরনো
গ্রাহকদের ধরে রাখার জন্য ইমেইল অনেক কাজ দেয় ।ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইমেইলের
গুরুত্ব অনেক। এই পুরো প্রক্রিয়া খরচ অনেকটাই কম এবং ফলাফল অনেক ভালো। যারা ছোট
ছোট ব্যবসা থেকে বড় অনলাইন বিজনেস ব্যবসা গড়ে তুলতে চান তাদের জন্য ইমেইল
মার্কেটিং একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর কৌশল হতে পারে।
ইমেইল লিস্ট সহজে কিভাবে তৈরি করবেন
ইমেইল মার্কেটিং করতে চাইলে প্রথম কাজ হচ্ছে একটি ভাল ইমেইল লিস্ট তৈরি করা। এখানে এমন মানুষের তালিকা তৈরি করতে হবে যারা উক্ত বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হবে ।এ তালিকা তৈরি করা সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষের ফ্রি কিছু উপকারী জিনিস দেওয়া এবং তার বিনিময়ে ইমেইল নেওয়া। আপনি যদি কোন বিষয়ের উপর একটু ভালো জেনে থাকেন তাহলে একটা ছোট্ট গাইড ,চেক লিস্ট বা ভিডিও বানিয়ে ফ্রি ডাউনলোড অপশন দিতে পারেন ।যখন কেউ সেটি নিতে চাইবে তখন তাদেরকে একটি ফরমে ইমেইল দিতে বলবেন।
এই কাজের জন্য আপনি চাইলে Mailchilmp, GetResponse বা Systemo.io এই ফ্রি টুলসগুলো ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে সহজে ফর্ম তৈরি করে ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার করা যায়। সবশেষে বলা যায়, লিস্ট বানাতে সময় লাগে কিন্তু একবার যদি বিশ্বস্ত লোকজনের তালিকা তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি সেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইনকাম করতে পারবেন ।এবং এর জন্য বারবার খরচ করা লাগবে না। তাই ভালোভাবে শিখে নিতে হবে। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা তৈরি করতে হবে এবং নিয়মিত কাজ করতে হবে। তাহলে ইমেইল মার্কেটিং করে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ইমেইল মার্কেটিং এর বেস্ট টুলস কোনটি
ইমেইল মার্কেটিং করতে হলে একটা ভালো টুলস ব্যবহার করা খুবই জরুরী ।এমন অনেকগুলো টুলস রয়েছে তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ টুলস হচ্ছে Mailchilmp ।কারণ এটি নতুনদের জন্য ফ্রি প্ল্যান দিয়ে শুরু করার সুযোগ দেয় এবং ব্যবহার করার নিয়মও অনেক সহজ। যারা বেশি ইমেইল পাঠাতে চান তাদের জন্য পেইড প্লানও রয়েছে যা আরো সুবিধা জনক। Mailchilmp এ টুলসে আপনি সহজে ইমেইল লিস্ট তৈরি করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় ইমেইল পাঠাতে পারবেন এবং এটি বিভিন্ন টেমপ্লেট রয়েছে। যেগুলো আপনার ইমেইল কে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।
এর পাশাপাশি ইমেইল খোলা এবং ক্লিক এর স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। আর একটি ভাল টুলস হচ্ছে Systemo.io । এটি শুধু ইমেইল মার্কেটিং নয়, পুরো বিজনেস চালানোর জন্য উপযোগী। এখানে আপনি কোর্স বানাতে পারেন ,ফানেল সেটআপ করতে পারবেন এবং সবকিছু এক জায়গায় ম্যানেজ করতে পারবেন। যারা বাংলাদেশ থেকে নতুন শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই দুইটি ফ্রি টুলস এবং সহজ। তাই এগুলো টুলস কে বেস্ট বলা যেতে পারে। কাজের ধরন অনুযায়ী টুলস বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ইমেল মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্যাসিভ ইনকাম করার কৌশল
মার্কেটিং শুধুমাত্র একবারের ইনকামের জন্য নয়। এটা দিয়ে আপনি নিয়মিত ইনকাম করতে পারবেন। মনে করেন আপনি একবার কাজ করে রাখলে সেটার ফল দীর্ঘ সময় ধরে আসতে থাকবে। এই কৌশল খুব বেশি কঠিন নয়। তবে ধৈর্য এবং নিয়মিত পরিকল্পনা থাকলে সবই সম্ভব। প্রথমে একটা নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিতে হবে ।যেমন- স্বাস্থ্য, শিক্ষা অথবা অনলাইন ইনকাম। তারপরে সেই বিষয়টি নিয়ে একটি ফ্রি গাইড চেক লিস্ট অথবা ছোট কোর্স তৈরি করতে হবে এবং সংগ্রহ করতে হবে। যখন একটি বড় ইমেইল লিস্ট তৈরি করতে পারবেন তখন আপনাকে সেখানে নিয়মিত মানসম্মত উক্ত বিষয়ের উপর কন্টেন্ট পাঠাতে হবে ।
এরপর আপনি ঐ ইমেইলের মধ্যে দিয়ে এফিলিয়েট লিংক,ডিজিটাল প্রোডাক্ট অথবা
নিজের সার্ভিস প্রমোট করতে পারবেন। আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন বা বাইরে আছেন তখনো যে কেউ
আপনার ইমেইল খুলে প্রোডাক্ট কিনতে পারবে এবং এখান থেকে আপনার প্যাসিভ ইনকাম শুরু
হবে। একবার ভালোভাবে সেটআপ করে ফেললে নিয়মিত ইনকাম আসতে থাকবে। শুধু মাঝে মাঝে
একটু আপডেট করতে হবে তাহলেই হবে।
ইমেইল মার্কেটিং এর সুবিধা গুলো-
১।ব্যক্তিগতকরন২।মতামত ও জরিপ
৩।বেচাকেনা বাড়ে
৪।কাস্টমারের এঙ্গেজড রাখে
৫।ই-কমার্স সাইটের ট্রাফিক বাড়ায়
৬।সঠিক সময় সঠিক মেসেজ দেওয়া যায়
৭।ইমেইল মার্কেটিং এর খরচ কম
৮।নিজস্ব অ্যাড মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়
ইমেইল মার্কেটিং এর মূল উদ্দেশ্য
- গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা
- পণ্য ও সেবার প্রচারণা
- লিড জেনারেশন
নতুনদের জন্য ইমেইল মার্কেটিং গাইড
ইমেইল মার্কেটিং নতুনদের জন্য শুরুতে একটি কঠিন মনে হলেও পর্যায়ক্রমে শিখতে পারলে অনেক সহজ হয় ।প্রথমেই বুঝতে হবে ইমেইল মার্কেটিং কি। ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম যেখানে আপনি আগ্রহী মানুষের ইমেইল সংগ্রহ করে তাদের কাছে নিয়মিত তথ্য অফার এবং পণ্য পাঠাবেন ।শুরুতে আপনাকে একটি ছোট ইমেইল লিস্ট তৈরি করতে হবে। ফ্রি গাইড, ভিডিও বা চেকলিস্ট মানুষকে দিয়ে তাদের ইমেইল সংগ্রহ করতে হবে। এর পরে Mailchilmp, GetResponse বা Systemo.io এই টুলস গুলোর মাধ্যমে ইমেইল পাঠানো শুরু করতে হবে ।
নিয়মিত উপকারী তথ্য এবং শিক্ষামূলক কনটেন্ট পাঠাতে হবে যেন পাঠক আপনার প্রতি
বিশ্বাস তৈরি করতে পারে। একবার পাঠকের মনে আস্থা তৈরি করতে পারলে আপনি ধীরে ধীরে
পণ্য বা সার্ভিস প্রমোট করতে পারবেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ধৈর্য রাখা
এবং নিয়মিত কাজ করা। একদিনে সফলতা আসেনা। সময় দিতে হবে ,অভিজ্ঞতা বাড়ানোর
চেষ্টা করতে হবে। ইমেইল মার্কেটিং করার জন্য শেখার ইচ্ছা থাকতে হবে। এবং নিয়মিত
কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলে সফলতা অবশ্যই আসবে।
আমাদের শেষ কথাঃ ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায়
ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই
আর্টিকেলে। ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে ধৈর্যের ফল। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে অতি
দ্রুত বড় কিছু আশা করা ঠিক নয় ।কিন্তু নিয়মিত কাজ করলে এবং সঠিক পথ অনুসরণ
করলে এটা থেকে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করা সম্ভব ।মানুষের সাথে সুন্দর সম্পর্ক
তৈরি করা, শুধু বিক্রির কথা ভাববেন না। গ্রাহকদের উপকার করার চেষ্টা করতে হবে।
যখন তারা বুঝতে পারবে, আপনি তাদের জন্য ভালো কিছু দিচ্ছেন তখন তারা আপনার
প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিবে। আপনার ইমেইল লিস্ট যত বড় হবে আপনার ইনকাম তত বেশি
হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ।আর সেই লিস্ট তৈরিতে ধৈর্য আর সময় দিতে হবে। ভালো
কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। নিয়মিত পাঠাতে হবে, ফিডব্যাক নিতে হবে । ইমেইল মার্কেটিং
করার জন্য ভালো টুলস ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তবে সেটার চেয়েও বেশি দরকার
হচ্ছে কৌশল এবং মনোযোগ। তাই ধীরে ধীরে শিখতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে
এগিয়ে যেতে হবে।
এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানে শেষ করছি ,আল্লাহ হাফেজ ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url