স্ক্রিন টাইম থেকে প্রিমিয়াম ফিচার: বদলে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যম!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আগে যেখানে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন বা সহকর্মীদের সঙ্গে খবর আদান প্রদান করতে অনেক খরচ লাগতো, এখন তা মুহূর্তের মধ্যেই সম্ভব হচ্ছে।

স্ক্রিন-টাইম-থেকে-প্রিমিয়াম-ফিচার-বদলে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যম!

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম  ,ম্যাসেঞ্জার  ,হোয়াটসঅ্যাপের  এর মত প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানুষকে একে অপরের সঙ্গে সহজেই যুক্ত করে রাখে। এর ফলে পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে।ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম এ সকল সামাজিক মাধ্যমগুলোর ফিচার বদলে যাচ্ছে ।এখন প্রিমিয়ামে পরিণত হতে যাচ্ছে যা  সকলের জন্য  দুঃসাধ্য বা নাগালের বাইরে।

পেজ সূচিপত্রঃ স্ক্রিন টাইম থেকে প্রিমিয়াম ফিচার: বদলে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যম!

সামাজিক মাধ্যম কেড়ে নিচ্ছে বছরের ৪০ দিন 

সামাজিক মাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্দ অংশ। তবে এই নির্ভরশীলতার মূল্য কম নয়। নতুন এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একজন সক্রিয় ব্যবহারকারী সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে পায় দুই ঘন্টা ৩৯ মিনিট সময় ব্যয় করেন ।সেই হিসাবে বছরে ১ হাজার ঘন্টারও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৪০টি পুরো দিন কেবল স্ক্রিন স্কল করে কেটে যাচ্ছে।ডেটা রিপোর্টারের   ডিজিটাল ২০২৬ গ্লোবাল ওভারভিউ রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫৬৬ কোটি মানুষের অন্তত একটি সামাজিক মাধ্যমে একাউন্ট রয়েছে। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ তৃতীয়াংশেরও বেশি ।২০০৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০ কোটির ও কম।  ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৭ কোটি তে। বিশ্লেষকদের মতে সাশ্রয়ী স্মার্ট ফোন ও সহজলভ্য ইন্টারনেটের কারণে এই প্রবৃদ্ধি দ্রুত ঘটেছে ।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের আড়াই ঘন্টার বেশি সময় খুব বেশি মনে না হলেও সপ্তাহ শেষে তা ১৮ ঘণ্টারও বেশি হয়ে যায়। আর বছরের হিসাবে শেষ সময় দাঁড়ায় ৪০ দিনের বেশি। গবেষকদের মতে, এত দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ব্যয় করার ফলে মানুষের  উৎপাদনশীলতা, মনোযোগ , ঘুমের মান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ।

আরও পড়ুনঃ ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সমূহ 

অঞ্চলভেদে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের হার কিছুটা ভিন্ন হলেও এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট ,পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বেশি।  যেখানে মোট জনসংখ্যার ৮৮ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিয়মিত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ।এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা।বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক , ইনস্টাগ্রাম  ,হোয়াটসঅ্যাপ  ও ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মে থাকা রিলস ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে আটকে রাখছে। একটার পর একটি ভিডিও দেখা প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে অজান্তেই আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্যোগ তৈরি করেছে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ।মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার শিশুদের মানসিক বিকাশ  ,মনোযোগ এবং সামাজিক আচরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করছে।বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া ব্রাজিল ও তুরস্ক। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার ও আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর ব্যবহারেও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি ।অন্যথায় প্রতিদিনের কয়েক ঘন্টার স্কিন টাইম অজান্তে জীবনের মূল্যবান সময় কেড়ে নিতে পারে। 

ফেসবুকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা মেটার

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই প্রযুক্তির ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরো উন্নত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে  এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কোম্পানির পক্ষে থেকে  জানানো হয়েছে। মেটার এই সাম্প্রতিক ব্লগ পোস্টে জানানো হয়েছে নতুন এইএ আই ফিচারগুলো ফেসবুকের তথ্য খোঁজা, কনটেন্ট তৈরি এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ধরনকে পুরোপুরি বদলে দেবে। নতুন এই পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ফেসবুকের এই আই মোড। ফলে ফেসবুকে কোন কিছু খোঁজার চিরাচরিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে ।এখন থেকে কোন তথ্য পেতে ব্যবহারকারীদের শত শত পোস্ট স্কল করতে হবে না ।বরং সাধারণ ভাষায় প্রশ্ন করলেই মেটা এ আই পাবলিক পোস্টগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি উত্তর জানিয়ে দেবে। তবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত পোস্টের ওপর ভিত্তি করে এই সারাংশ তৈরি হওয়ায় এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন থাকতে পারে বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে মেটা এবার নিয়ে এসেছে নতুন ভিডিও এডিটিং টুলস। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে এ আই ফটো প্রিসেট নামের একটি বিশেষ ফিচার।এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পোশাক, চুলের স্টাইল এবং চেহারার ধরনের বৈচিত্র আনতে পারবেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে স্থির ছবিকে সচল করতে এনিমেটেড প্রোফাইল ফটো ফিচারও চালু করেছিল মেটা। মেটা জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সব অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য এই নতুন ফিচারগুলো চালু করা হবে। এর মধ্যে কিছু দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই আপডেটগুলো রোল আউট করা শুরু হয়েছে ।এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপ  কে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার এর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এজন্য তারা বিভিন্ন ব্রডকাস্টার, ফুটবল দল , খেলোয়াড় এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে। ফলে বিশ্বকাপের সময় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ফুটবল বিষয়ক বিশেষ ইন্টারেক্টিভ ফিচার উপভোগ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

বিনামূল্যে গ্রাহক বান্ধব সেবা বন্ধ করেছে তিনটি জনপ্রিয় অ্যাপ 

ডিজিটাল দুনিয়ায় বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার দিন মনে হয় সত্যিই ফুরিয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে কোটিপতি মানুষের নিত্যদিনের সংগীত তিনটি জনপ্রিয় অ্যাপ ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রাম বিনামূল্যে বা ফ্রি সেবা দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসা সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। এখন থেকে এতগুলো প্রিমিয়াম ও গ্রাহক বান্ধব ফিচার গুলো ব্যবহার করতে ব্যবহারকারীদের পকেট থেকে টাকা গুনতে হবে।দীর্ঘদিন ধরে এই অ্যাপ গুলো কোনরকম চার্জ ছাড়াই ব্যবহারকারীদের আকর্ষণীয় ও সহজ  সব সেবা দিয়ে আসছিল মেটা ।ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে এগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পায় ।তবে সম্প্রতি অ্যাপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক মডেলের বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। ইনস্টাগ্রাম ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল প্লাটফর্মে অনেক কিছুই আর বিনামূল্যে গ্রাহক বান্ধব থাকছে না। সব ধরনের সুবিধা পেতে প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহার করতেই হবে। ফলে গুনতে হবে মাসিক ফ্রি।

কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সমস্যায় পড়বে 

বিনামূল্যে পাওয়া যাবে না ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রাম এর সব পরিষেবা। এই তিন সামাজিক মাধ্যমেই এখন থেকে প্রিমিয়াম ফিচারের পরিষেবা পেতে সুবিধা বুঝে খরচ করতে হবে। মার্কিনটেক সংস্থা মেটার এমন ঘোষণা  পড়ে গেছে। মার্ক জাকারবার্গের সংস্থার সিদ্ধান্তে আদতে সমস্যায় পড়ল কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা।

খরচ কেমন হবে

 ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্টে মেটার পন্যপ্রধান নাওমি  গ্লাইট তিনটি মাধ্যমে প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহারে পেইড  সাবস্ক্রাইবশন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু তাই নয় তিনটি প্লাটফর্মেরও প্লাসস্করণের সুবিধা পেতেই ব্যয় করতে হবে অর্থ। কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাস এর জন্য প্রতি মাসে দিতে হবে ৩.৯৯ ডলার। বর্তমানে ব্যবহার হওয়া বিনামূল্যে অ্যাপ সুবিধাকে আপাতত বন্ধ করছে না মেটা।নাওমি  গ্লাইট বলেছেন, অনেকে বাড়তি ফিচার ও প্রিমিয়াম টুলের পরিষেবা নিতে আগ্রহী। ঠিক তাদের কথা বিবেচনা করেই পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। অবশ্যই এতে  শঙ্কার তেমন কারণ নেই। 

মেটা বলছে, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাস এর অত্যাধুনিক এনালিটিক্স রিল বা স্টোরি ইচ্ছামত কয়েকবার দেখার সুবিধা, প্রোফাইল কাস্টমাইজড ও বিপুলসংখ্যক দর্শক এর কাছে পৌঁছে দিতে থাকবে আলাদা টুল ।এমন উদ্যোগ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও নেটে ভক্তদের চাহিদা বাড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস সংস্করণে ব্যক্তি কেন্দ্রিক পরিষেবার কথা বিবেচনা করেছে মেটা ।সেখানে প্রিমিয়াম স্টিকার কাস্টম অ্যাপ থিম ছাড়াও মোহনীয় কিছু রিংটোন ব্যবহারের সুবিধা পাবেন গ্রাহক। আগামী দিনে সাবস্ক্রিপশন কেন্দ্রিক বেশ কিছু প্ল্যান চালুর আভাস দেয়া হয়েছে। এতে বিষয় ভিত্তিক ভিডিও বা ছবি ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা পাওয়া যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায় বিজ্ঞাপন ব্যবসার মডেল থেকে সরে এসে ভিন্ন কিছু করতে চাইছে মেটা।

ইউটিউবের সার্চবারে আসছে পরিবর্তন

ইউটিউব হচ্ছে অনলাইন বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। খুব সহজেই সার্চ বাড়ে গিয়ে পছন্দের গান বা সিনেমা দেখতে পারেন। আর এবার সেই ভিডিও  ছাড়ার সময় বড় পরিবর্তন আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  নির্ভর ফিচার চালু করার পরিকল্পনা করছে ইউটিউব। এর সুবিধার মাধ্যমে এখন আর শুধু সার্চ বক্সে শব্দ লিখে খুঁজতে হবে না ।সেট করে পাওয়া যাবে পছন্দের ভিডিও ।বর্তমানে ইউটিউবে কিছু লিখা বা ভয়েস সার্চ দিয়ে পছন্দের ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এবার নতুন এ আই ফিচার ব্যবহারকারীরা সরাসরি চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন করে বা নির্দিষ্ট ফ্রন্ট ব্যবহার করেই ভিডিও খুঁজে নিতে পারবেন। ইউটিউব জানিয়েছে, এই ফিচার চালু হলে সার্চ বারের পাশে বা ভিডিওর নিচে আস নামের একটি বাটন দেখা যাবে। সেখানে ক্লিক করলে প্রচলিত সার্চ রেজাল্ট এর বদলে একটি সেট ইন্টারফেস খুলবে। ব্যবহারকারীরা সেখানে প্রশ্ন লিখতে পারবেন ।এমনকি আগে থেকে দেওয়া পর্যন্ত বেছে নিতে পারবেন। এবং ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরবে।ভিডিও চলার সময় ও প্রাসঙ্গিক তথ্য দেখাবেএই ফিচার। বর্তমানে ইউটিউব সুবিধারটি পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছে। তবে কেবল ইউটিউব প্রিমিয়ার  ব্যবহারকারীরা এই ফিচার ব্যবহার করতে পারছেন ।ইউটিউব মূলত একটি চ্যাট ভিত্তিক সার্চ সিস্টেম। এটি শুধু ভিডিও খুঁজেই দেবে না বরং ভিডিওর সংক্ষিপ্ত সার তৈরি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরবে ।ফলে ভিডিওতে থাকা পণ্য বা বিষয় সম্পর্কে জানতে আর আলাদা করে অন্য কোন ওয়েবসাইটে যেতে হবে না। 

ফেসবুক অ্যাপ এ বড় পরিবর্তন

বছরের পর বছর মেটা ভার্সন নিয়ে ব্যস্ত ছিল ফেসবুক। তবে ব্যয় কমানো ও আগ্রহ কমে যাওয়ার পর নতুন দিকনির্দেশনায় ফিরছে তারা। ফেসবুক এখনো বিশ্বের অগণিত মানুষের হাতে থাকা একটি অ্যাপ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বাজারে ব্যবহারকারীর প্রবৃদ্ধির থমকে গেছে।ফেসবুকে তরুণ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে তাই জেন জেড ব্যবহারকারী ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি নতুনভাবে ভাবছে। কয়েক মাস আগে কলেজকেন্দ্রিক ফিচার চালুর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এবার নজর পড়েছে ফেসবুক মার্কেট প্লেসে ।মার্কেটপ্লেস এখন বেশ জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রে জেন জেড ব্যবহারকারীদের অর্ধেক এর বেশি এটি ব্যবহার করে ।তরুণদের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাঝেও মার্কেটপ্লেস এর ব্যবহার বাড়ছে। এতে এত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ফিচারটি এতদিন অ্যাপের ' More'  মেন্যুর ভেতর লুকিয়ে ছিল ।নতুন আপডেটে এই অবস্থান বদলাচ্ছে খুব দ্রুতই অ্যাপের নিচের নেভিগেশন বারেই দেখা যাবে মার্কেটপ্লেস ।এর পাশে থাকবে  রিলস ও ফ্রেন্ডস সংক্রান্ত অপশন ।ইনস্টাগ্রামে রিলস ও মেসেজিং সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিচার । সেই মডেলেই এবার ফেসবুকে বন্ধুকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা জোরদার করা হচ্ছে। প্রোফাইল ট্যাব আগের জায়গায় থাকবে ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে পারবেন। ছবি দেখার অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসছে ।ছবিতে ডাবল ট্যাপ করে লাইক করা যাবে ।একদম ইনস্টাগ্রাম স্টাইল এ ছবিগুলো একটি এরকম, একটি একরকম গ্রিডে সাজানো হবে ।ক্লিক করলে ফুল স্ক্রিনে দেখা যাবে।

সার্চে ও আসছে পরিবর্তন 

আরো ইন্টারেক্টিভ গ্রিড ডিজাইন যোগ হচ্ছে ছবি ও ভিডিও দেখার জন্য। আসছে ফুল স্ক্রিন ভিউয়ার এতেসার্চ রেজালট  হারিয়ে না গিয়ে আরও গভীরভাবে কনটেন্ট দেখা যাবে।স্টোরি বা সাধারণ পোস্ট তৈরি করা হবে। আরো সহজ মিউজিক যোগ করা, বন্ধুর ট্যাগ করা , এসব টুল সামনে আনা হবে। সেটিংস ও সহজ করা হচ্ছে অডিয়েন্স সিলেকশন ও ক্রস পোস্টিং সংক্রান্ত অপশন। আরো স্পষ্ট ভাবে দেখা যাবে কমেন্ট সেকশনেও যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা রিপ্লাই। আরও সহজ হবে ব্যাজ বেশি দৃশ্যমান হবে।পিনিং টুল যোগ হচ্ছে ক্রিয়েটর ও গ্রুপ এডমিনদের জন্য। মডারেশন টুল উন্নত করা হয়েছে। বিরক্তিকর মন্তব্য অ্যানোনিমাসভাবে  রিপোর্ট করতে পারবেন সবাই। ফিডে কোন পোস্ট পছন্দ না হলে ব্যবহারকারীরা কারণ জানতে পারবেন, এতে ফিড আরও ব্যক্তিগতকৃত হবে। অনেকদিন পর ফেসবুক আবার বন্ধুত্ব নির্ভর ফিচার বাড়াচ্ছে ।প্রোফাইলে যোগ করা যাবে আগ্রহ, শখ , ভ্রমণ তথ্য সহ আরো অনেক কিছু ।আপনি কি দেখছেন, কি শুনছেন  ,কোথায় যেতে চান এসব তথ্য দিয়ে মিল পাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো লক্ষ্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের প্রধান সুবিধা সমূহ

  • দ্রুত যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ঃ এর মাধ্যমে পরিচিত লোকের বিশ্বের যে কোন প্রান্তে থাকুক না কেন মুহূর্তের মধ্যে ভিডিও কল বা  মেসেজের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। এর ফলে আমাদের সময় এবং অর্থ দুটোই বেঁচে যাচ্ছে ।এছাড়াও যে কোন জরুরী খবর বা প্রয়োজনীয় ফাইল আমরা খুব দ্রুত একে অপরের কাছে পাঠাতে পারছি। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তুলছে, কাজের গতি অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • ক্যারিয়ার গঠন ও নেটওয়ার্কিংঃ বর্তমান যুগে নিজের প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো অনেক ভালো কাজ করছে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে নতুন চাকরির সুযোগ খুঁজে পাওয়া, শিক্ষামূলক গ্রুপ বা পেজ থেকে নতুন নতুন বিষয় শেখা সম্ভব। এছাড়াও নিজের দক্ষতা, বড় মানুষের সামনে উপস্থাপন করা অনেক সহজ হয়েছে এবং স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে। 
  • মানবিক সাহায্য ও সচেতনতা বৃদ্ধিঃ রক্তের প্রয়োজন ছাড়াও বা কোন বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দ্রুত সাহায্য এবং জনমত তৈরি করা সম্ভব। এটি অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে সরাসরি সাহায্য করে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই প্লাটফর্ম গুলো সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে ।এবং অল্প সময়ের ইতিবাচক পরিবর্তন আনে যা সুন্দর ও মানবিক দিক থেকে সবাই গ্রহণ করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অসুবিধা 

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যেমন বিভিন্ন রকমের সুবিধার রয়েছে, তেমনি এর ব্যাপক অসুবিধা রয়েছে। যেমন আসক্তি ও সময়ের অপচয় ঘন্টার পর ঘন্টা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও বা কনটেন্ট স্কুল করার ফলে আমাদের কাজের ইচ্ছা মারাত্মকভাবে কমে যায়। যা আমাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
  • গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিঃ অনলাইনে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার কারনে হ্যাকার বা অসাধু ব্যক্তিরা খুব সহজেই আপনার বর্তমান অবস্থান বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জেনে আপনাকে বিপদে ফেলার সুযোগ পায়। আপনি যদি ইন্টারনেটের এই সুরক্ষা প্রাচীর একটি মজবুত না রাখেন তবে আপনার গোপনীয় তথ্যগুলো যে কারো হাতে চলে যেতে পারে।
  • সম্পর্কের অবনতি ও তুলনাঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের জীবনের সাথে তুলনা করার ফলে অনেক সময় আত্মহীনতা তৈরি হয় যা আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় অনলাইন জগতের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে বাস্তব জীবনে প্রিয়জনদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয় এবং পারিবারিক কলহ বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হয় এতে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
  • শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যাঃ বর্তমান সময়ে অনেকক্ষণ ধরে বাকা হয়ে মোবাইল ব্যবহার করার ফলে ঘাড় ও পিঠের ব্যথার পাশাপাশি চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ার মত জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ।এছাড়া শরীরচর্চা বা মাঠে খেলাধুলা অভাব আমাদের অলস করে তুলছে যার ফলে অতিরিক্ত ওজন ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহু গুনে বেড়ে যাচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক কষ্টের কারণ হতে পারে ।

আমাদের শেষ কথাঃ স্ক্রিন টাইম থেকে প্রিমিয়াম ফিচার: বদলে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যম! 

দেশের বাইরে থাকা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগাভাগি করাও এখন অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী , কোন মানুষ এই মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের কাজ দ্রুত এবং সুবিধাজনকভাবে সম্পন্ন করছে। সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনে গতিশীল আনন্দময় করেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যত রকমের সুবিধা রয়েছে এর চেয়ে বেশি রকমের অসুবিধা রয়েছে। যার প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন  জীবনে মোকাবেলা করতে হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত সকলের।  

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানে শেষ করছি  ,আল্লাহ হাফেজ ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url