ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে টাকা আয় করার সম্পূর্ণ গাইড

আপনি কি ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে টাকা আয় করার সম্পূর্ণ গাইড সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য । ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইট বিক্রি করে ইনকাম করবেন সম্পূর্ণ আলোচনা করা হবে এই আর্টিকেলে। বর্তমান ইন্টারনেটের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত ।বর্তমান সময়ে অনলাইন থেকে টাকা আয় করার জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করা। বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পেজ সূচিপত্রঃ ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে টাকা আয় করা

 ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে টাকা আয় করা

ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে আয় করা যায়। প্রথমে আমাদের জানতে হবে ওয়েবসাইট কি ?ওয়েবসাইট হল কোন ওয়েব সার্ভারে রাখা ওয়েব পৃষ্ঠা যেখানে ছবি, অডিও , ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টি যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়। ওয়েবসাইট থেকে আয় করা এখন আর কঠিন ব্যাপার নয় ।এটি একটি সহজ মাধ্যম ।ওয়েবসাইট হচ্ছে এমন একটি ইন্টারনেট মাধ্যম যেখানে বিশ্বের সকল মানুষ আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজ করবে এবং আপনার রেখে দেওয়া তথ্য গুলো সকলেই দেখতে পাবে।তাই বিশ্বের অনেক অনেক মানুষ যখন আপনার ওয়েবসাইটে আসা-যাওয়া করবে। 

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকর উপায় 

তাই ওয়েবসাইটটি আপনি ইনকামের শর্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এবং ব্যবসার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। অনেকেই ওয়েবসাইট তৈরি করে রাখেন ।কেউ নিজের ব্যবসার জন্য, কেউ নিজের পণ্য বিক্রি করার জন্য এবং কেউ ব্যবহার করেন নিজের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর মাধ্যম হিসেবে । বর্তমান প্রযুক্তির এই যুগে ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করা যায়। এ কথা সবার কাছে পরিচিত। তাই প্রথমে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি  করতে হবে। 

এবং নিয়মিত সেখানে যখন ভিজিটর আসতে থাকবে তখন আপনার ওয়েবসাইটটার পারফরমেন্স উন্নত হবে।শুধুমাত্র ওয়েবসাইট তৈরি করলেই আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে না। এর জন্য লাগবে ধৈর্য সহকারে উপযুক্ত কাজ। প্রচুর পরিমাণে ধৈর্য থাকলে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

ওয়েবসাইটের ধরন নির্ধারণ করতে হবে

আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন এবং সে ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে চান, তাহলে মূলত ওয়েবসাইট টা কি ধরনের হবে সেটা ধরনটি আগে নির্বাচন করতে  হবে।কারণ ওয়েবসাইটের ধরন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- ব্লগ ওয়েবসাইট ।এ ব্লগ ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পরিমাণে আর্টিকেল বা কনটেন্ট প্রকাশ করা হয় ।খুব সুন্দর আকর্ষণীয় কন্টেন্ট পাবলিশ করলে সেখানে গুগল থেকে ভিজিটর আসে এবং প্রতিদিন ভিজিটরের পরিমাণ যত বেশি হবে আপনার ইনকামের পরিমাণ তত বেশি হবে। ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে আপনি যদি ইনকাম করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে আকর্ষণীয় কন্টেন্ট লিখতে হবে যা দেখে দর্শক মুগ্ধ হবে । 

এবং সেখানে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আসবে। গুগল এসে আপনার সাইটটিকে সার্চ করবে । এভাবেই যখন বেশি পরিমাণে ভিজিটর আসতে থাকবে তখন আপনি এডসেন্স অ্যাপ্রুভ করে ইনকাম করতে পারবেন। ই-কমার্স ওয়েবসাইট। ই-কমার্স ওয়েবসাইট হচ্ছে পণ্য বা সেবা বিক্রির জন্য অনলাইন মাধ্যম। বর্তমান যুগ হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগ ।প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ বিশেষ করেই অনলাইনে সার্চ করে কোন কিছু কেনাকাটা করতে চায়। সেজন্য আপনার যদি কোন ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকে, সেখানে আপনি যে কোন পণ্য আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই সেখান থেকে আয় ইনকাম করা যেতে পারে।

অফিলিয়েট ওয়েবসাইট-আপনি যদি একটি এফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং সেখানে বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ দিয়ে থাকেন এবং পণ্যের রিভিউ দিয়ে লিংক যুক্ত করেন তাহলে সেখান থেকে আয় করা সম্ভব।বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি রয়েছে তাদের লিংক যুক্ত করার জন্য চেষ্টা করে এবং পণ্যের প্রচারণা করে।অন্যের প্রচারণা করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে এছাড়া পোর্টফোলিও বা বিজনেস ওয়েবসাইট তৈরি করা যেতে পারে ।কোন কোম্পানি বা ব্যক্তির কাজের বিবরণ দেওয়া ওয়েবসাইটটি হচ্ছে পোর্টফোলিও বা বিজনেস ওয়েবসাইট ।এই ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনি আয় ইনকাম করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করা

আপনি যদি ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় ইনকাম করতে চান  তাহলে সহজ এবং কম খরচে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এবং সেখান থেকে আয় ইনকাম করতে পারবেন। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে ডোমেন হোস্টিং সংগ্রহ করতে হবে। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য একটি আকর্ষণীয় খুব সুন্দর ডোমের নাম সিলেকশন করতে হবে এবং একটি ভাল মানের হোস্টিং কিনতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট তৈরি হওয়ার পর যাতে আকর্ষণীয় নাম দেখে মানুষ সেখানে ক্লিক করে তাহলে আপনার ভিজিটর সংখ্যা বাড়বে। খুব কম খরচে আপনি যদি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন ।

এছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। বর্তমান যুগে এই সকল ওয়েবসাইটগুলো জনপ্রিয়। আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে হলে এমন সুন্দর এবং খুব আকর্ষণীয় ভাবে ওয়েবসাইটটি তৈরি করুন যাতে করে মোবাইল ও কম্পিউটার উভয় ডিভাইসের মধ্যে দ্রুত লোড হয় এবং দেখতে সুন্দর হয়। আমাদের দেশে যেহেতু মোবাইল ইউজার বেশি সেহেতু আপনার ওয়েবসাইটটি  হলে মোবাইল ফ্রেন্ডলি ভাবে তৈরি করতে হবে ।তাহলে আপনার ভিজিটর সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা  থাকে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি মাধ্যম যেখানে অন্য কোন ব্যক্তি বা কোম্পানির পণ্য বা সেবা প্রচার করে কমিশন আয় করা যায়। যখন কেউ সেই পণ্যের প্রচার করা লিঙ্ক এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা  কিনে নিবে তখন আপনি  নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম আপনি যে কোন অনলাইন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পণ্য, দোকানের পণ্য বা অনলাইনে কেনা যায় যে কোন পণ্য নিজের ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা youtube চ্যানেল এফিলিয়েট লিংক এর মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। 

আপনি যেকোনো ধরনের ক্যাটাগরির পণ্য বা সেবা নিয়ে যদি বিস্তারিত লেখালেখি করেন এবং সেখানে তার ভালো দিক ও মন্দ দিক সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন তবে সেখান থেকে আয় করতে পারবেন। সেজন্য একটি ভাল মানের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। যেখানে ব্যবহারকারীরা বেশি বেশি এই সাইটে আসে ।এবং SEO করতে হবে । এফিলিয়েট লিংক বসিয়ে পণ্য বিক্রি করে কমিশন হিসাবে আয় করা যায়। একটি জনপ্রিয় এফিলিয়েট প্রোগ্রাম হচ্ছে Amazon এফিলিয়েট প্রোগ্রাম। এছাড়াও অন্যান্য প্রোগ্রাম রয়েছে ।অ্যামাজন , ইবে , আলি এক্সপ্রেস , ক্লিক ব্যাংক এ সকল জনপ্রিয় মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রচুর টাকা আয় করা যায়।

নিজের পণ্য বা সেবা বিক্রি করে আয় করা

আপনার সাইটটি যদি জনপ্রিয় হয় এবং সেখানে যদি প্রতিদিন ভালো পরিমাণে ট্রাফিক আসে তাহলে আপনি নিজের তৈরি করা কোন পণ্য কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন সেখানে দিতে পারবেন। এবং সেখান থেকেই আপনার পণ্যের জন্য বেশ ভালো সেল করতে পারবেন। প্রোডাক্ট সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। আপনার যদি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকে তাহলে নানান ধরনের পণ্য আপনি লিস্টিং করতে পারবেন। এবং সেটা বিক্রি করতে পারবেন। আপনার ভিজিটরদের কাছে বিভিন্ন তথ্য নির্ভর কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন। যেটা আপনার ভিজিটররা ক্রয়ের জন্য আকৃষ্ট হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পণ্য যেমন ই-বুক , ভিডিও কোর্স  সকল কিছু বিক্রি করতে পারবেন। আপনার ভিজিটরদের কাছে এতে করে আপনার নির্ধারিত পণ্য বিক্রি করার সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়।

আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে থাকেন তবে তা সেবা হিসেবে বিক্রি করতে চান, তাহলে ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনার সেবা বা সার্ভিসটি বিক্রি করতে পারবেন। যেমন এসইও ডিজিটাল বিপণন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং , কন্টেন্ট রাইটিং , গ্রাফিক্স ডিজাইন , ওয়েবসাইট ডিজাইন , ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি কাজ আপনি জেনে থাকলে বা শিখে থাকলে নিজের কাজ বিক্রি করতে পারবেন। কাজের পরিমাণ ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্যাকেজ আকারে মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন। যথাযথভাবে যদি এসইও করে গুগলের তালিকায় উপরে থাকেন তাহলে সহজে আপনার সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন ।

Google Adsense থেকে ইনকাম করা

আপনার সাইটে বেশ কিছু সংখ্যক যখন ভিজিটর আসা শুরু করবে google এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে হবে। রেজিস্টার গুগল এডসেন্স আপনার একাউন্টে এপ্রুভ করলে এডসেন্সের বিজ্ঞাপন আপনার সাইটে নিতে পারবেন। তখন আপনার সাইটে মানুষ বিজ্ঞাপন দেখবে ক্লিক করবে তখন আপনি সেখান থেকে টাকা পাবেন। আপনার সাইটে কত ভিজিটর আসছে কোথায় দেখানো হচ্ছে এ সকল বিষয়ের উপর নির্ভর করে। আপনি টাকা পাবেন আপনার সিপিসি যত বেশি হবে আপনার ইনকাম তত বাড়বে। এসইও ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে নিয়মিত ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে।

গুগল এডসেন্স এমন একটি মাধ্যম, এমন একটি প্রোগ্রাম বা মাধ্যম যার মাধ্যমে আপনি আপনার, ওয়েবসাইট , ইউটিউব চ্যানেল , মোবাইল অ্যাপ , বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে টাকা আয় করতে পারবেন। এখানে আপনার আয়ের পরিমান নির্ভর করবে বিজ্ঞাপনের ধরন , আপনার সাইটের ট্রাফিক বা ভিজিটরের ওপর। তবে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ আর্টিকেল থাকতে হবে।

ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বিক্রি করে আয় করা

আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি রয়েছে। এ সকল কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টা করে। মনে করেন, কোন কোম্পানি আপনাকে তাদের ট্রাফিক বৃদ্ধি করার জন্য কিছু টাকা পে করবে , যেন আপনার সাইটে তাদের ওয়েবসাইটের লিংক দিতে পারেন। আপনি যখন আপনার সাইটে তাদের লিংক অর্থাৎ তাদের ওয়েবসাইটের লিংক দিবেন তখন উক্ত লিংকে  ক্লিক করবে যার ফলে সে ওয়েবসাইটে ভিজিটর সংখ্যা বাড়বে। এবং  ভিজিট করবে। যখন বিভিন্ন মানুষ সেই ওয়েবসাইট ভিজিট করবে ধীরে ধীরে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইট টা কে এসইও করলে আপনার ভিজিটরের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি আপনার পোস্টগুলো শেয়ার করেন তাহলে আপনার ভিজিটর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

বিজ্ঞাপনের স্পেস বিক্রি করে আয় করা 

আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করা থেকে শুরু করে কিছুদিন পরে ধীরে ধীরে সেটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এবং জনপ্রিয় হওয়ার পরে প্রচুর পরিমাণ ভিজিটর আসা শুরু করবে। আর যখন প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর আসতে শুরু করবে তখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন স্পেস বা অ্যাড প্লট বিক্রি করতে পারবেন। বিভিন্ন ধরনের ব্রান্ড আপনার ওয়েবসাইটের ব্যানারে অথবা ডান পাশে কিংবা বাম পাশে তাদের নিজের কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। সরাসরি আপনার সাথে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে। আপনি যখন বিভিন্ন ব্রান্ডের বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহ প্রকাশ করবেন তখন এ থেকে আপনি আয় করতে পারবেন। 

ওয়েবসাইট বিক্রি করবেন যেভাবে

আপনি যদি একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং সেটা বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন তাহলে সেটা বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে বিক্রি করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেমন-  ফাইবার, আপওয়ার্ক , ফ্রিল্যান্সার ডটকম  পিপল পার আওয়ার , গুরু ডট কম ইত্যাদি। সকল মাধ্যমে যোগাযোগ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট টা বিক্রি করতে পারবেন।যদি আপনি চান সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে সরাসরি তাদের কাছে বিক্রি করবেন তাহলে সেটিও করতে পারবেন। এছাড়া ওয়েবসাইট কেনাবেচার সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ফ্লিপা (Flippa)। এ মার্কেটপ্লেসে আপনি আপনার ওয়েবসাইট বিক্রি করতে পারবেন।

এছাড়া আপনার যদি একটু বড় অথবা প্রতিষ্ঠিত আয়ের একটি সাইট বিক্রি করতে চান তাহলে আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে Empire Flippers।আপনার ওয়েবসাইটে যদি আয় ইনকাম থাকে তাহলে আপনি এই মাধ্যম ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইট বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমান প্রযুক্তির এই যুগে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটটি বিক্রি করতে পারবেন।

ওয়েবসাইটের দাম নির্ধারণ এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়া

আপনার যদি একটি সুন্দর আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সেটির আপনি মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটের মাসিক আয়ের যদি ২০ থেকে ৪০ গুন পর্যন্ত দামে বিক্রি করা যায়। আপনি ওয়েবসাইট থেকে যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে যদি প্রতিদিন নিয়মিত আয় ইনকাম হয় তাহলে সেটি আপনি ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রতি মাসে ১০০ ডলার যদি আয় হয়ে থাকে তাহলে সে অনুযায়ী আপনি ২০০০ ডলার থেকে ৪০০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়াও যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রতি মাসে এর চেয়েও বেশি ইনকাম হয় তাহলে উক্ত ওয়েবসাইট থেকে এর চেয়ে আরও বেশি পরিমাণ ডলারে বিক্রি করতে পারবেন। আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি যখন বিক্রি করতে চাইবেন তখন নিরাপদে সেটি লেনদেন করতে হবে। মার্কেটপ্লেস তার নিজস্ব ক্রসক্রো(Escrow.com) সার্ভিস ব্যবহার করে টাকা ও ওয়েবসাইটের মালিকানা হস্তান্ত করতে হয়। যাতে কোন ধরনের প্রতারণা না হয়। ওয়েবসাইট এর আয়ের  ২০ থেকে ৪০ গুন পর্যন্ত দামে বিক্রি করা যায়। এছাড়াও প্রিমিয়াম বা বেশি দামি সাইটে আপনার ওয়েবসাইট বিক্রি করতে পারবেন। 

আমাদের শেষ কথাঃ  ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে টাকা আয় করা

ওয়েবসাইট তৈরি করে বিক্রি করা মূলত অনলাইন ব্যবসা যেখানে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা অথবা একটি পুরনো ওয়েবসাইট কে কিনে সেটিকে উন্নত লাভজনক বানিয়ে আবার অন্য কারো কাছে বিক্রি করা। এগুলো অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে সম্ভব। আপনি বিভিন্ন রকমের ওয়েবসাইট বা ব্লগ ওয়েবসাইট  তৈরি করতে পারবেন এবং ওয়েবসাইটটি সেল করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ব্যক্তিগত কোম্পানি তাদের নিজস্ব পক্ষ নিয়ে তৈরি করার জন্য তাদের ওয়েবসাইট দরকার পড়ে। আপনি তখন বিভিন্ন কোম্পানির সাথে যুক্ত হয়ে তাদের জন্য পোর্টফোলিও বা ব্রান্ড ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে পারবেন। একটি ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার সারা জীবনের অর্থ উপার্জনের একটি মাধ্যম। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেকেই এ ধরনের সাইট তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের ফিচার এ আই  সুন্দরভাবে তৈরি করে সাইট গুলো সাজাতে পারবে।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এ আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয়-স্বজন সকলের কাছে শেয়ার করবেন। কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্টে আপনার মতামত জানাবেন। আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো আর্টিকেল লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Most Asia Khatun
Most Asia Khatun
আমি একজন প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর।অনলাইন ইনকাম,প্রবাস ভ্রমণ গাইড,ব্লগিং ,SEO,তথ্য ও প্রযুক্তি, শিক্ষা,লাইফ স্টাইল,নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।সঠিক তথ্য সুন্দর ও সঠিক ভাষায় সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।