অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির সম্পূর্ণ গাইড

অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এর জন্য সঠিক নিশ ও সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন করার গুরুত্ব, পেজের আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন করার কৌশল , প্রোডাক্ট এর রিভিউ এবং তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণের গুরুত্ব , এছাড়াও কল টু অ্যাকশন বাটনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই আর্টিকেলে।

অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির  সম্পূর্ণ গাইড

তাই বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পেজসূচিপত্রঃ অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির সম্পূর্ণ গাইড

অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরি

কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রমোট করা বা বিক্রি করে কমিশন নেওয়াকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। মনে করেন, আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে আছে। আপনি মার্কেটিং খরচ কমানোর জন্য বা সেল বাড়ানোর জন্য কি করা যায় তা নিয়ে বেশ চিন্তিত আছেন। এই পরিস্থিতিতে একজন অ্যাফিলিয়েট  মার্কেটার আপনার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। আপনার শুধু পণ্য বিক্রি করার উপরে উক্ত মার্কেটে কিছু কমিশন দিতে হবে। সেই কমিশনের উপর ভিত্তি করে সে আপনার পণ্যের মার্কেটিং করে সেল বাড়িয়ে দিবে। এতে আপনার এক একটা মার্কেটিং  খরচ অনেক  কমে যাবে ।বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত কোম্পানি অ্যামাজন বা আলীএক্সপ্রেস অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে প্রতি বছরই পণ্য বিক্রি করে অনেক মুনাফা অর্জন করছে।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য আপনি সহজে যেভাবে এগোতে পারবেন সেটা হচ্ছে ওয়েবসাইট- ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে, ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে , ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এর মাধ্যমে। এই এফিলিয়েট মারকেটিং করে আপনি কিছুটা সুবিধা পাবেন, তার সাথে কিছুটা অসুবিধা পেতে পারেন।

 আরও পড়ুনঃ ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়।

অ্যামাজনের সব প্রোডাক্টই মানসম্মত এবং ভালো এমাজনের মার্কেটে সুনাম আছে সবাই এটিকে চিনে আপনি যখন একজন বায়ার এমাজনে পাঠান তখন সে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে যেকোন প্রোডাক্টটি কিনুক তার কমিশন আপনি পাবেন আপনি ওই প্রোডাক্টের মার্কেটিং না করেও তার কমিশন পেতে পারেন এমাজনের ট্রাফিক পাঠালে সেই প্রোডাক্টটি কিনবে amazon তার সাথে আরো রিলেটেড সাজেশন করে পাবেন রিলেটেড আরও প্রোডাক্ট সাজেস্ট করে এ থেকে সেল হলেও ছেলের কমিশন আপনি পাবেন এর ফলে আপনার কমিশন অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এই সুবিধাগুলোর জন্য অ্যামাজনে মার্কেটিং করা ভালো

প্রোডাক্ট রিভিউ ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের গুরুত্ব

প্রোডাক্ট রিভিউ বলতে বোঝায় কোন নির্দিষ্ট পণ্যের বাস্তব ব্যবহার কার্যকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত ও সত্যভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা। এটি এমন একটি কন্টেন্ট যেখানে একজন ব্যবহারকারী বুঝতে পারে প্রোডাক্টটি আসলে কেমন কাজ করে এবং তার খরচ কত টাকা, সঠিক হবে কিনা। এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে এই অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ কোন কিছু কেনার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা জানতে চায় এবং সেই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়। একটি ভালো প্রোডাক্ট রিভিউ শুধু প্রশংসা করার জন্য লেখা হয়না বরং বাস্তব দৃষ্টিকোন থেকে  পণ্যের ভালো দিক এবং খারাপ দিক দুটোই তুলে ধরা হয়। শুধু যদি ভালো কথা বলা হয় তাহলে কনটেন্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না, ব্যবহারকারী সেটিকে বিজ্ঞাপন হিসেবে ধরে নেয় এবং আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু যখন বাস্তব ব্যবহার সীমাবদ্ধতা এবং কার জন্য একটি উপযুক্ত তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তখন ভিজিটরের বিশ্বাস তৈরি হয়। এবং সে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে একই সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ যোগ করলে ব্যবহারকারীর একাধিক প্রোডাক্ট এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। কোনটি তার বাজেট অনুযায়ী ভালো হবে তা সহজে নির্বাচন করতে পারে । ফলে কনভার্শন রেট ও অনেক বেড়ে যায়।

সঠিক নিশ ও প্রোডাক্ট  নির্বাচন করার গুরুত্ব 

অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করার জন্য সঠিক নিশ ,প্রোডাক্ট নির্বাচন করার বেশ গুরুত্ব দিতে হবে। নিশ হলো এমন একটা নির্দিষ্ট বিষয় বা ক্যাটাগরি যার উপর ভিত্তি করে একটি এফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। মনে করেন আপনি কোন ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন সেটা হল আপনার নিশ ।কেউ যদি মনে করে শুধু কিচেন বা রান্নাবাড়ার প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন তাহলে সেটি তার একটি নিশ। আবার কেউ যদি মনে করে শুধুমাত্র টেক রিলেটেড কোন কাজ করবে সে অর্থাৎ টেকনোলজি হিসাবে তাকে ধরা হবে। অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সফল হওয়ার জন্য শুরুতে সঠিক নিশ  নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ পুরো নিশের ওপর নির্ভর করে এটা তৈরি করা হবে ।যারা নতুন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করেন তারা শুধু এই এফিলিয়েট মার্কেট এরা শুধু ট্রেন্ড দেখে যে কোন একটা ক্যাটাগরি নির্বাচন করে কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় সে প্রোডাক্ট এর চাহিদা কমে গেছে অথবা প্রতিযোগিতা এতই বেশি যে গুগলের রাঙ্ক করানো  এটার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে । এজন্য সঠিক নিশ নির্বাচন করার আগে ভালোভাবে গবেষণা করা প্রয়োজন বা জানা জরুরী।এমন একটি বিষয় বা নিশ্কে বেছে নিতে হবে যেটি মানুষের আগ্রহ দীর্ঘ দীর্ঘমেয়াদে থাকবে, প্রতিনিয়ত সার্চ করা হবে  ,পাশাপাশি সেই নিশের  মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যামাজন প্রোডাক্ট থাকতে হবে ।যাতে ভবিষ্যতে আরো নতুন কনটেন্ট তৈরি করা যায় ।যখন কোন প্রডাক্ট নির্বাচন করতে হবে তখন শুধু কমিশনের দিকে তাকালেই হবে না, অনেক সময় বেশি কমিশনের প্রোডাক্ট বিক্রি করা কঠিন হয়ে যায়। আবার আবার কম দামের কিছু প্রোডাক্ট দুটো সেল করা যায়। তাই মানুষের প্রয়োজন, ব্যবহার , সুবিধা , রিভিউ বিশ্লেষণ করে প্রোডাক্ট নির্বাচন করা অবশ্যই উচিত। Best Budget Smartphone অথবাBest Coffee Maker মানুষ এ ধরনের প্রোডাক্ট বেশি সার্চ করে । কারণ তারা কেনার আগে সেটা তুলনা করতে চায় ।এ ধরনের পণ্যের উপর ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করলে ভিজিটর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং কনভার্শন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সঠিক নিশ  নির্বাচন করার সময় যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি

  • প্রোডাক্টের সার্ভ ভলিউম ভালো কিনা
  • অ্যামাজনে পর্যাপ্ত রিভিউ এবং সেল আছে কিনা 
  • মানুষের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ আছে কিনা
  • ভবিষ্যতে আরো কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব কিনা
  • প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কম কিনা

ল্যান্ডিং পেজের  আকর্ষণীয় ডিজাইন করার কৌশল

 ল্যান্ডিং পেজের আকর্ষণীয় ডিজাইন বলতে একটি ওয়েব পেজের ভিজুয়াল স্ট্রাকচার লে আউট এবং উপস্থাপন বিষয়ে পদ্ধতি। যার মাধ্যমে ভিজিটর প্রথম দেখাতে বুঝতে পারে পেজটি কি সম্পর্কে এবং কি অফার করছে ।এটি এমন একটি ডিজাইন বা ব্যবহারকারীর চোখে পড়ার সাথে সাথে তাকে আকৃষ্ট করে এবং পেজে ধরে রাখে ।ল্যান্ডিং পেজের ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করতে হয় প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বুঝতে পারে এটি কি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং এখানে তার জন্য কি উপকার আছে। কারণ অনলাইনে মানুষের ধৈর্য খুব কম তাই যদি ডিজাইনটি জটিল এলোমেলো বা অতিরিক্ত রঙ ও এনিমেশন ব্যবহার করা হয় তাহলে ব্যবহারকারীর দ্রুত বিভ্রান্ত হয়ে পেজ ছেড়ে চলে যায়।এজন্য ডিজাইন সব সময় মিনিমাম পরিষ্কার ফোকাসড হওয়া উচিত। যেখানে মূল উদ্দেশ্যটাকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যায় এবং ব্যবহারকারী কেউ ধীরে ধীরে কনভার্সনের দিকে নিয়ে যাওয়া। একটি ভালো ডিজাইন শুধু দেখতে সুন্দর হওয়ার জন্য নয় বরং এটি ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখতে, তাকে সঠিক তথ্যের দিকে পরিচালিত করার জন্য তৈরি করা হয়। তাই হেডলাইন এবং প্রোডাক্ট ইমেজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিজাইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা বা ইউজার এক্সপিরিয়েন্স ।কারণ যদি কোন পেজ সহজে নেভিগেট করা না যায় বা তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা হয় তাহলে ভিজিটর দ্রুত সাইট ছেড়ে চলে যেতে পারে ।তাই কনটেন্ট এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে চোখ স্বাভাবিকভাবে এক অংশ থেকে আরেক অংশ চলে যায়। ধীরে ধীরে সিটি আর বাটনের দিকে আগ্রহ তৈরি হয় ।মোবাইল রেসপন্সিভ ডিজাইন এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী মোবাইল থেকে ব্রাউজ করে। তাই মোবাইল থেকে যদি পেজ সঠিকভাবে না দেখা যায় তাহলে বড় অংশে ট্রাফিক হারিয়ে যাবে, একই সাথে লোডিং স্পিডের সাথেও ডিজাইনের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ভারী বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান থাকলে সাইট ধীর হয়ে যায় এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা খারাপ হয় যা সরাসরিি আয়কে প্রভাবিত করে।

ডোমেন ও হোস্টিং নির্বাচন বা বাছাই করার সঠিক পদ্ধতি

ডোমেইন হলো আপনার ওয়েবসাইটের নাম বা ঠিকানা। যেটার মাধ্যমে মানুষ আপনার ল্যান্ডিং পেজে প্রবেশ করে। অপরদিকে হোস্টিং হলো সেই সার্ভার যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সব ফাইল ছবি এবং কনটেন্ট সুরক্ষিত থাকে ।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর অনেকেই এই দুটি বিষয়কে ছোট করে  দেখে। কিন্তু বাস্তবে একটি শক্তিশালী ও দ্রুত হোস্টিং ছাড়া প্রফেশনাল লেন্ডিং পেজ তৈরি করা সম্ভব নয় ।এর মূল কারণ হচ্ছে ভিজিটর ।যদি ওয়েবসাইটে ঢুকতে গিয়ে ধীর গতির অভিজ্ঞতা পায় তাহলে তারা দ্রুত সাইট ছেড়ে চলে যাবে। অনেক সময় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মানুষ অযথা জটিল নামে ডোমেন নির্বাচন করে যেটা মনে রাখা বা টাইপ করা কঠিন হয়। আবার কিছু মানুষ ফ্রী বা দুর্বল হোস্টিং ব্যবহার করে যার ফলে ওয়েবসাইট বারবার ডাউন হয়ে যায়। এই সমস্যাগুলো সরাসরি ট্রাফিক এবং  আয়ের এর উপর প্রভাব ফেলে তাই ডোমেইন নির্বাচন করার সময় সহজ ও ছোট এবং নিজ সম্পর্কিততো নাম ব্যবহার করা উচিত। হোস্টিং এর ক্ষেত্রে লোডিং স্পিড ভালো আপ টাইম এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। 


দ্রুত লোডিং স্পিড নিশ্চিত করার উপায় 

ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড বলতে বোঝায় একটি ল্যান্ডিং পেজ কত দ্রুত ওপেন হয় এবংব্যবহারকারীর সামনে সম্পূর্ণ কনটেন্ট কত সময়ের মধ্যে লোড হয়। সহজভাবে বললে, একজন ভিজিটর যখন আপনার  লিংকে ক্লিক করে তখন সে পেজটি দেখতে তার কত সময় লাগে সেটাই তার লোডিং স্পিড।  মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনলাইনে ব্যবহারকারীদের ধৈর্য খুব কম থাকে। তারা কয়েক সেকেন্ডের বেশি অপেক্ষা করে না ।যদি পেজ ধীরে লোড হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাক করে চলে যায় এবং আপনি সম্ভাব্য কনভারশন হারিয়ে ফেলেন ।ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড ধীর হওয়ার কারণে ধীর হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে ।যেমন ভারী সাইজের ইমেজ ব্যবহার করা,  অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন বা স্ক্রিপ্ট রাখা , দুর্বল হোস্টিং সার্ভার ব্যবহার করা অথবা অপটিমাইজ না করা। থিম ব্যবহার করা অনেক সময় দেখা যায় ডেভলপার ডিজাইন সুন্দর করার জন্য বড় বড় ইমেজ বা এনিমেশন ব্যবহার করে দেয়। আবার কিছু ওয়েবসাইট অতিরিক্ত প্লাগিন ইন্সটল করা থাকে। যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড এর সার্ভার রিচার্জ  খরচ করে এবং পেজ লোড টাইম বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যা গুলোর সমাধান করার জন্য প্রথমে ইমেজ অপটিমাইজ করা খুবই জরুরী। ইমেজ কম সাইজ রেখে কোয়ালিটি ঠিক রাখতে হবে। যাতে  পেজ দ্রুত লোড হয়। কিন্তু ভিজুয়াল কোন ক্ষতি না হয়। এরপর হালকা ও অপটিমাইজ থিম ব্যবহার করা উচিত। যাতে অপ্রয়োজনীয় কোড না থাকে ।এবং সাইড দ্রুত কাজ করে। একই সাথে ক্যাশিং সিস্টেম ব্যবহার করলে বারবার পেজ লোড করার সময় সার্ভার লোড কমে যায় এবং স্পিড অনেক বেড়ে যায় ।ভালো মানের হোস্টিং ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ দুর্বল সার্ভার থাকলে যত অপটিমাইজ করা হোক না কেন স্পিড ভালো হবে না ।মোবাইল স্পিড আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ভিজিটর মোবাইল ফোন থেকে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে  যদি মোবাইল লোডিং ধীর হয় তাহলে ব্যবহারকারী খুব দ্রুত সাইট ছেড়ে চলে যায়। এবং সে ট্রাফিক আর ফিরে আসে না। এবং মোবাইল অপটিমাইজেশনের অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিতভাবে গুগল Google Page Speed Insights এর মত টুল ব্যবহার করে স্পিড পরীক্ষা করলে বোঝা যায় কোথাও সমস্যা আছে এবং কিভাবে সেটি সমাধান করতে হয়।

এসিও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার নিয়ম

এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের কনটেন্ট যা একদিকে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং অন্যদিকে সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগলে ভালোভাবে  র‍্যাংক করতে সাহায্য করে। সহজ ভাবে বললে এই কন্টেন্ট ব্যবহারকারী পড়ে যার সমস্যার সমাধান পায়। এমন একটি কন্টেন্ট যা ব্যবহারকারীরা পড়ে তার সমস্যার সমাধান পায়। এবং google সহজে বুঝতে পারে যে এই কোন বিষয়ে লেখা হয়েছে বরং কনটেন্টের ভিতরে মানসম্মত তথ্য বাস্তব সমাধান এবং পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা জরুরী।  SEO ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ গুগলে যেটা লিখে সার্চ করে এবং সে সমস্যার সমাধান খুঁজছে। কোন ধরনের তথ্য বেশি জানতে চাচ্ছে এগুলো না বুঝে কনটেন্ট লিখলে র‍্যাংক করা কঠিন হয়ে যায়। স্বাভাবিক কনটেন্ট এর মধ্যে কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সেটা বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়। এমন ভাবে ব্যবহার করতে হয় যাতে পড়তে স্বাভাবিক লাগে ব্যবহারকারী যেন সহজে বুঝতে পারে একটি ভালো SEO  কন্টেন্ট ।শুধু তথ্য দেওয়া নয় বরং সমস্যার সমাধানের সক্ষমতা থাকতে হয়। কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে লিখলে সেটি কিভাবে কাজ করে তার জন্য উপযোগী কি কি সুবিধা আছে ,বাস্তবে কি সমস্যা হতে পারে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হয় ।এতে ব্যবহারকারী কনটেন্ট এর উপর আস্থা পায় এবং দীর্ঘ সময় পেজে থাকে তা গুগল এর কাছে একটি ভালো সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে। র‍্যাংকিং বাড়াতে সাহায্য করে। 

ভিজিটরের বিশ্বাস অর্জনের কার্যকর কৌশল 

এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন নতুন ব্যবহারকারী আপনার ওয়েবসাইটকে নির্ভরযোগ্য মনে করে এবং সেখানে দেওয়া তথ্য বা অ্যাফিলিয়েট লিংক এর উপর আস্থা রাখে ।সহজ ভাবে বললে, যে কেউ যখন প্রথমবার আপনার ল্যান্ডিং পেজে আসে তখন তার মনে যে সন্দেহ থাকে সেটি দূর করে তাকে বিশ্বাস করানো হলো ট্রাস্ট বিল্ডিং। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ মানুষ অনলাইনে সহজে টাকা খরচ করতে চায় না।তারা আগের নিশ্চিত হতে চায় যে তথ্যটি সত্য এবং নির্ভরযোগ্য কিনা। অনেক ওয়েবসাইটে দেখা যায়, অতিরিক্ত মার্কেটিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। যেমন সবচেয়ে সেরা, নাম্বার ওয়ান বা গ্যারান্টি , বেস্ট প্রডাক্ট।এ ধরনের অতিরঞ্জিত কথা ব্যবহারকারীর মনে সন্দেহ তৈরি করে এবং তারা কন্টেন্ট কে বিশ্বাস করতে পারে না। বরং বাস্তব তথ্য স্বাভাবিক ভাষা এবং সব রিভিউ ব্যবহার করলে ভিজিটরের আস্থা বাড়ে। যখন একজন ব্যবহারকারী দেখে যে আপনি শুধু ভালো দিক নয় বরং প্রোডাক্টের সীমাবদ্ধতা ও বলেছেন তখন সে সহজেইবুঝতে পারে এটি একটি সত্যিকারের বিশ্লেষণ। বিশ্বাস তৈরী করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ওয়েবসাইটের প্রফেশনাল উপস্থাপনা ।যেমন এসএফএল সার্টিফিকেট থাকা, পরিষ্কার ডিজাইন , সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রাইভেসি পলিসি থাকা এই সব কিছু ব্যবহারকারীর মনে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। পাশাপাশি বাস্তব ইউজার রিভিউ বা সোশ্যাল প্রুফ করলে ভিজিটর আরো বেশি আস্থা পায়। যত বেশি স্বচ্ছতা থাকবে তত বেশি মানুষ আপনার লিংকে ক্লিক করবে এবং কনভার্শন বাড়বে।

Call To Action  বাটনের সঠিক ব্যবহার 

Call To Action বাটন হলো  ল্যান্ডিং পেজের এমন একটি অংশ যেটি ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট অ্যাকশন নিতে উৎসাহিত করে। এখনই কিনু্‌ দাম দেখুন বা সম্পূর্ণ রিভিউ দেখুন ।সহজভাবে বললে, এটি সেই বাটন যার মাধ্যমে ভিজিটর আপনার এফিলিয়েট  লিংকে ক্লিক করে  অ্যামাজন এর পেজে চলে যায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কল টু অ্যাকশন বাটন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ যত ভালো কনটেন্ট থাকুক না কেন যদি সেটা কল টু একশন বাটন দুর্বল হয় তাহলে ভিজিটর সহজে একশন নেবেনা। এবং কনভার্শন কমে যাবে অ্যাকশন বাটন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্পষ্ট সহজ এবং চোখে পড়ার মতো নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় বাটন থাকে কিন্তু সেটি বোঝা যায় না। ফলে ব্যবহারকারী সেটিতে ক্লিক করতে আগ্রহী হয় না ।কল টু অ্যাকশান টেক্সট  এমনভাবে লিখতে হয় যাতে  ব্যবহারকারীরা সাথে সাথে বুঝতে পারে। ক্লিক করলে কি হবে এবং সে কেন ক্লিক করবে যেমন amazon এ দেখুন বা আজকের সেরা অফার, চেক করুন এ ধরনের লেখা বেশি কার্যকর হয়। কারণ এতে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে অল্প অ্যাকশনের টেক্সট এর অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।এটি শুধু এক জায়গায় না রেখে পেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাখতে হয় যেমন হেডলাইনের নিচে প্রোডাক্ট ডিটেলস এর শেষে এবং পুরো কনটেন্ট এর মাঝামাঝি অংশে রাখা হয় এতে ব্যবহারকারী যে কোন সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একই সাথে বাটনের ডিজাইন এমন হতে হবে যাতে এটি আলাদা করে চোখে পড়ে এবং চোখে পড়লে পুরো পেজের ফ্লো নষ্ট না করে। সঠিকভাবে সিটি আর ব্যবহার ল্যান্ডিং পেজের কনভারশন রেট অনেক বেড়ে যায়। 

মার্কেটিং কৌশল ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য

সেই ভিজিটরদের ট্রাফিক বলে যারা বিভিন্ন সোর্স থেকে আপনার ল্যান্ডিং পেজে আসে এবং কনটেন্ট দেখে। আপনার ওয়েবসাইটে মানুষ আশাকে ট্রাফিক বলা হয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং এ ট্রাফিক ছাড়া কোন ইনকাম সম্ভব নয়। তাই এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর মধ্যে একটি ।যত বেশি টার্গেটের ট্রাফিক আসবে তত বেশি কনভার্সনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনেকেই শুধু একটি সোর্সের  উপর নির্ভর করে ট্রাফিক আনার চেষ্টা করে কিন্তু এতে ফলাফল সীমিত হয় ।তাই বিভিন্ন মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করা খুবই জরুরী ।SEO এর মাধ্যমে গুগল থেকে অর্গানিক ভিজিটর পাওয়া যায় যা দীর্ঘ মেয়াদে সবচেয়ে শক্তিশালী ট্রাফিক সোর্স ।অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন  ইউটিউব , ইনস্টাগ্রাম, প্রিন্টারেস্ট এবং ফেসবুক ব্যবহার করে দ্রুত ভিজিটর আনা যায়। 

ট্রাফিক বাড়ানোর কার্যকর কৌশল গুলো হলো 

  • SEO এসইও অপটিমাইজ ব্লগ ও আর্টিকেল লেখা
  • Facebook গ্রুপ ও পেজ কন্টেন্ট শেয়ার করা 
  • YouTube ইউটিউব ভিডিও বা শর্টস তৈরি করা 
  •  Pinterest এ প্রোডাক্ট পিন পোস্ট করা 
  • Instagram  ইনস্টাগ্রাম রিলস ও  স্টোরি ব্যবহার করা 
  • Quora বা quora তে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

কনভার্সন রেট বাড়ানোর উন্নত কৌশল

কতজন ভিজিটর আপনার ল্যান্ডিং পেজে এসে সত্যিই অ্যাকশন নিচ্ছে সেটা হচ্ছে কনভারশন রেট।অ্যামাজন লিংকে ক্লিক করা বা প্রোডাক্ট কিনা শুধু ভিজিটর আশা নয় সে ভিজিটর ক্রেতা বা ক্লিক কারি হচ্ছে কনভার্সন রেট।এফিলিয়েট মার্কেটিং এ এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।অনেক সময় দেখা যায় হাজার ভিজিটর আসলেও যদি কেউ ক্লিক না করে তাহলে কোন আয় হবে না ।অনেক সময় দেখা যায় ওয়েবসাইটে ভালো ট্রাফিক আসে কিন্তু সেল হচ্ছে না ।এর প্রধান কারণ হলো দুর্বল কন্টেন্ট অস্পষ্ট সিটিআর বা ব্যবহারকারীর মধ্যে বিশ্বাসের অভাব ।এই সমস্যার সমাধান করতে হলে এমনভাবে অপটিমাইজ করতে হবে যাতে ব্যবহারকারী সহজে বুঝতে পারে তাকে কি করতে হবে এবং কেন সে সেই প্রোডাক্ট কিনবে।  এজন্য A/B টেস্টিং খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করে কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায় কোন ডিজাইন হেডলাইন বা সিটিআর বেশি কাজ করেছে। কনভারশন বাড়ানোর জন্য Urgency এবং Scarcyty ব্যবহার করাও একটি কার্যকর কৌশল। সীমিত সময়ের অফার ডিসকাউন্ট বা আনলিমিটেড স্টক টাইপ তথ্য ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পাশাপাশি পেজের লোডিং স্পিড মোবাইল অপটিমাইজেশন এবং বিশ্বাসযোগ্য কন্টেন্ট কনভারশন রেট বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করে। যত বেশি সহজ পরিষ্কার এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হবে তত বেশি ভিজিটর অ্যাকশনে যাবে ।

আমাদের শেষ কথাঃ অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরির সম্পূর্ণ গাইড

অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ল্যান্ডিং পেজ তৈরীর সম্পূর্ণ গাইড নিশ এবং প্রোডাক্ট নির্বাচন করার গুরুত্ব, ডোমেন- হোস্টিং নির্বাচন , ল্যান্ডিংপেজ  ডিজাইন , আকর্ষণীয় ডিজাইন , SEO ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লেখার নিয়ম , প্রোডাক্ট রিভিউ বিশ্লেষণের গুরুত্ব , দ্রুত লোডিং স্পিড নিশ্চিত করার উপায়  ,পাশাপাশি কল টু একশন বাটন এর সঠিক ব্যবহার , ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য মার্কেটিং কৌশল , কনভার্সন রেট বাড়ানোর উন্নত কৌশল বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে|

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানে শেষ করছি  ,আল্লাহ হাফেজ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url